সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:১৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মণিরামপুরে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলমাণ আমি যাই করি মানুষের সহ্য হয় না: হিরো আলম (ভিডিও) সিটিটিসি’র হাতে নব্য জেএমবি’র ৪ সদস্য গ্রেপ্তার দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে কষ্ট লাগে —-মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম ১২ হাজার টাকায় ছয় মাসের সন্তানকে বিক্রি করলেন মা-বাবা! পৃথিবীর কাছ ঘেঁষে যাবে বুর্জ খলিফার চেয়েও বড় গ্রহাণু বিবিসির শীর্ষ ১০০ নারীর তালিকায় ২ বাংলাদেশি বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ২৪ দলীয় শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত। কলারোয়ার চন্দনপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে নাসিউদ্দীন ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন কলারোয়ায় সাংবাদিক এমএ সাজেদের পুত্র সোহেল রানার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত \ প্রেসক্লাবের শোক
করোনার কালো থাবা : বিপদ দ্বারপ্রান্তে !

করোনার কালো থাবা : বিপদ দ্বারপ্রান্তে !

Spread the love

যশোরে স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হল। তার একদিন পর খুলনায় আক্রান্তের খবর এলো। জানি না ভাগ্যে কি আছে ? সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই প্রার্থনা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ । তাকে তুমি রক্ষা করো। মরণঘাতি করোনাভাইরাস গোটা পৃথিবীর মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। অদৃশ্য এই শক্তির কাছে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকে পরাস্ত হতে দেখছি। চারিদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল। ভোগ বিলাস ও উন্নত জীবন যাপনের জন্য তৃতীয় বিশ্বের মানুষগুলো পাড়ি জমাই ইউরোপ-আমেরিকায়। কিন্তু সেখানেও তারা নিরাপদ নয়।

প্রতিদিন প্রবাসী বাঙ্গালীদের মৃত্যুর খবর প্রচারিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। বাংলাদেশে হু হু করে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন দীর্ঘায়িত হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। সরকার প্রথম থেকেই যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। মরণঘাতী এই রোগ থেকে মানুষকে বাঁচাতে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে বলা হয়েছিল। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু বাঙালি জাতি- কে শুনে কার কথা।

শহর থেকে প্রত্যন্তর গ্রাম অঞ্চলে চলছে এক শুনশান নিরবতা। চরম আতঙ্ক আর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে মানুষের। জানিনা কখন জানি কি হয়ে যায় ? পুলিশ সেনাবাহিনী র‌্যাব ও সিভিল প্রশাসন মানুষকে ঘরমুখো করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অতি প্রয়োজনে যারা ঘর থেকে বাইরে যাবে, তারা যেন সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে চলে।

এমনিতেই করোনা ভাইরাস এর বিরূপ প্রভাব থেকে মানুষকে বাঁচাতে সরকার, সরকারি ছুটির পাশাপাশি সকল প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্য আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। তারপরও মানুষকে ঘরমুখো করা যাচ্ছে না। এমনিতেই এক পক্ষকাল ধরে শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

মানবিক কারণে সরকারের প্রশাসনিক যন্ত্রগুলো নিম্নআয়ের মানুষের দুয়ারে খাদ্য সামগ্রী পাঠাতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। ঘরমুখো মানুষ গুলো যখন হাট-বাজার রাস্তায় নামছে তাদের প্রতি প্রশাসন ও কঠোর হতে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে দেখা যাচ্ছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পুলিশ পথে নামা মানুষগুলোকে বেধড়ক লাঠিচার্জ করছে। ভারতীয় পুলিশের এ ধরনের অমানবিক আচরণ ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে।

তারপরও ভারতীয় প্রশাসন যথেষ্ট কঠোর ভূমিকা পালন করে চলেছে। বাংলাদেশ পুলিশ প্রথম দিকে কিছুটা কঠোর হলেও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে গিয়ে কিছুটা মানবিক পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। মনিরামপুরে মহিলা এসিল্যান্ড সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা ও মুখে মাক্স না থাকায় এক বৃদ্ধকে কান ধরে উঠবস করানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যার কারণে প্রশাসন মানুষকে ঘরমুখো করতে কিছুটা হলেও ব্যর্থ হয়। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের বিদায়ী মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাহেব যথার্থই বলেছেন, ঘরে থাকবেন নাকি মরবেন সিদ্ধান্ত আপনার।

গত ১৪ মার্চ থেকে সাতক্ষীরা জেলায় দশ সহশ্রাধিক মানুষ ভারতসহ অন্যান্য দেশথেকে নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছে। বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকাসহ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রাষ্ট্র গুলো থেকে ফিরে আসা প্রবাসীদের হোমকরেন্টাইন কিছুটা হলেও মানতে বাধ্য করানো হয়। গত কয়েকদিন নারায়ণগঞ্জ মাদারীপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সাতক্ষীরায় ফিরে আসা ইটভাটা শ্রমিকরা এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে মানুষ সামাজিক গুরুত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে চোখে পড়ছে না। ওএমএস ডিলার ও টিসিবির ভ্রাম্যমান পয়েন্টে শ্রমজীবী মানুষের উপচে পড়া ভিড় যথেষ্ট ভয়ের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে ।

ইতোমধ্যেই শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের ঘরের চাল ফুরিয়ে গেছে। সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এসব মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছে। অপরদিকে হাট বাজার রাস্তা ঘাটে মানুষের ভিড় সামলানো চেষ্টা করতে দেখছি। প্রশাসনকে কখনো কঠোর আবার কখনো মানবিক ভূমিকা পালন করতে গিয়ে কেউ কেউ তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। তবে বাঙালি ভালো মুখে ঘরে ফিরতে চায় না। আবার কঠোর হলে সেটা অমানবিক দেখায়। সব মিলিয়ে এক কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। ঢাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর খবর আসছিল।

এরইমধ্যে খবর এলো মনিরামপুরের এক স্বাস্থকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে । ওই স্বাস্থ্যকর্মী কয়দিন আগে কেশবপুরে তার আত্মীয় বাড়ি থেকে ঘুরে গেছে। এরপর খবর এলো খুলনার খালিশপুরের এক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। দুই সপ্তাহ আগে করণা রোগীর পরীক্ষা হত ঢাকায়। যার ফলে আক্রান্ত রোগীর নমুনা পরিক্ষা কম হতো। ফলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম ছিল। কিন্তু দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষাগার স্থাপন করায়, রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকল। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী কেশবপুর উপজেলার ইমাননগর গ্রামে অবস্থান করছে। বিষয়টি আমাদের জন্য যথেষ্ট আতঙ্কের কারণ। কারণ কেশবপুরের সাথে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার দীর্ঘ সীমানা রয়েছে।

এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসনকে এখন আর মানবিক হওয়ার সুযোগ নেই। কঠোরভাবে মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সাতক্ষীরা থেকে দেড় শতাধিক রোগীর নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। গুটিকয়েক রিপোর্ট এসেছে তা নেগেটিভ। অর্থাৎ সাতক্ষীরা জেলায় এখনো কেউ করোনাই আক্রান্ত নয়। উদ্বেগের কারণ এই ভাইরাস খুলনা যশোর পর্যন্ত চলে এসেছে।

জানিনা কখন যে কি ঘটে যায় ! সাধারণ মানুষকে নিজের ও অপরের জীবন বাঁচাতে এখন আর ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। মানুষ এখন আর না খেয়ে মরে না। কিন্তু যে মহামারী দেশে এসেছেন তাতে সংক্রমিত হয়ে মানুষ মারা যেতে পারে। পরিশেষে বলতে চাই। প্রশাসনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। নিজের ও অপরের জীবন বাঁচাতে ঘরে থাকুন । অন্যথায় বিপর্যয় অনিবার্য।

 

লেখক : সম্পাদক,দৈনিক সংকল্প, RTV এর নিজস্ব প্রতিনিধি,সাতক্ষীরা।

 

 637 total views,  2 views today


Tufan Convention Center & Resort Lack Views || Satkhira

তুফান কনভেনশন সেন্টার ও রিসোর্ট সাতক্ষীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 songkalpo.Com
Design & Developed BY CodesHost Limited