শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে দরিদ্র পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছে উড়ান ফাউন্ডেশন লকডাউনের তৃতীয় দিনে সাতক্ষীরায় রাস্তাঘাট কিছুটা ফাঁকা হলেও বাজার গুলোতে ছিলো যথেষ্ট ভিড়, সেখানে মানা হচ্ছেনা তেমন কোন সামাজিক দূরত্ব গলাচিপায় পানের বরজে গাঁজা চাষ আটক ০১ জন। ফকিরহাটে বাজার বণিক সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা কলারোয়ায় পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভূক্ত ৫ আসামি গ্রেফতার ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে, প্রধান শিক্ষক শামীম গ্রেফতার মণিরামপুরে মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে ফের ঘের নিতে মরিয়া সিরাজ মোল্যা, জমি মালিকদের লীজের চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করতে হুমকি-ধামকির অভিযোগ ফকিরহাটে তৃতীয় দিনেও কড়াকড়ি ভাবে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে ফকিরহাটে তৃতীয় দিনেও কড়াকড়ি ভাবে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অন্যের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
আশাশুনি সদরের প্লাবন কবলিত মানুষ ভিতরে ভিতরে চরম ভোগান্তিতে

আশাশুনি সদরের প্লাবন কবলিত মানুষ ভিতরে ভিতরে চরম ভোগান্তিতে

Spread the love

আশাশুনি প্রতিনিধি :

আশাশুনি সদর ইউনিয়নের বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা প্রকাশ্যে না আসলেও ভিতরে ভিতরে চরম বিপর্যস্ততা অসহায় পরিবারগুলোকে কুরে কুরে খাচ্ছে। দীর্ঘ একটি বছর তার জীবন থেকে খসে গেলেও কষ্টকর সাম্প্রতিক অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ তাদেরকে অন্ধকারাচ্ছন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সদর ইউনিয়নের মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আষ্টেপিষ্টে আকড়ে ধরে আছে। একের পর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলোচ্ছাস, সাইক্লোন পাউবো’র বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে এলাকাকে তছনছ করে দিয়েছে। অসংখ্য মানুষের ভিটে বাড়ি, চাষের জমি ও মৎস্য ঘের নদী গর্ভে বিলীন করে দিয়েছে। হাজার হাজার একর জমি নদীর কাছে নতি স্বীকার করে ছেড়ে দিয়ে ভ‚মিহীন, সম্বল হারা কিংবা চাষের জমি হারা হয়ে অনেকে ভবিষ্যৎকে সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছেন। জমি নদীর কবলে যাওয়ার পর জমি নিয়ে এলাকাবাসীকে দ্ব›দ্ব ফাসাদের মত বিশৃংখলায় জড়াতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনি পরিনতির মধ্যে থাকা মানুষ যখন নিজেদেরকে গুছিয়ে নিতে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিল। তখন এক বছর আগে ২০২০ সালের ২০ মে ভয়ঙ্কর সাইক্লোন আম্ফান আশাশুনিকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাসেও ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ নির্মান করা সম্ভব হয়নি। রিং বাধ নির্মান করে অনেককে ভাঙ্গনের মধ্যে রেখে দিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠিতে ঠেকানো হয়। কিন্তু গত ৩০ মার্চ আবারও প্লাবনের শিকার হয় গোটা এলাকা। দীর্ঘ ৯ মাসে অনেকে ঘরবাড়ি গুছিয়ে নিয়ে, নতুন করে চাষাবাদ, মৎস্য চাষে সর্বস্ব বিনিয়োগ কিংবা ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু বিধি বাম, তাদের সবকিছু আবারও নদীর জলে ভেসে গেল। ঘরবাড়ি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির সাথে সদর ইউনিয়নের ৩৬০ হেক্টর জমির ৩১৫টি মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। ফলে ইউনিয়নের মানুষের গায়ে সাদা কাপড়, গতানুগতিক চাল চলন দেখা গেলেও ভিতরে ভিতরে ঋণের জালে দেউলিয়া হতে বসেছে বললেও ভুল হবেনা। সদর ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন জানান, গত ২৯ মার্চ যকন দেখলাম বাঁধের অবস্থা শোচনীয় তখন রাতে নিজস্ব অর্থে রিং বাঁধ রক্ষায় কাজ করাই। পরদিন সকালে পুনরায় কাজ করাই। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। দুপুরে রিং বাধ ভেঙ্গে এলাকা একাকার হয়ে যায়। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পরামর্শ নিয়ে ৩১ মার্চ ২৭৬ শ্রমিক কাজে লাগিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করি। প্রত্যেককে ৭কেজি করে চাউল দেওয়ার ঘোষণা দেই। ১ এপ্রিল ৩০০ টাকা মজুরির ঘোষণা দিয়ে ৩৮৭ জন শ্রমিক কাজে লাগিয়ে বাঁধ রক্ষায় সফল হই। রাতে ৫০ জন শ্রমিক কাজে রেখে দেই। পরদিন আরও ১৭৫ শ্রমিক ৩০০ টাকা মজুরির বিনিময়ে কাজ করাই। আল্লাহর রহমতে বাধ টিকে যায়। এরপর পাউবো মূল বাধে ঠিকাদার ক্লোজারে কাজ শুরু করে। মঙ্গলবার ক্লোজার চাপান সম্পন্ন হয়। বাধের কাজ এগিয়ে চলছে। বাধ রক্ষা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা নিয়ে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়েছি। ইতিমধ্যে প্লাবনের শিকার ৩৫০ পরিবারকে ৭ কেজি করে চাউল দেওয়া হয়েছে। সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু আম্পানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার চেষ্ঠায় আঘাত করে পুনরায় বিপর্যস্ত করে ফেলানো মানুষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি। তাদেরকে পুনর্বাসন ব্যবস্থা করা, আর্থিক সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয় অনস্বীকার্য। মাছের ঘেরে ৩ কিস্তিতে মাছ ছাড়া হয়েছিল। এখন মাছে ধরে বিক্রয় করার সময় এসেছিল, কিন্তু আম্ফানের ন্যায় এবারও তারা সমুলে ধ্বংস হয়েছে। না আছে আয়ের সুযোগ, না আছে বসবাসের সুষ্ঠু পরিবেশ, না আছে স্যানিটেশনের সুব্যবস্থা, না আছে ঋণের টাকা পরিশোধের উপায়। আমি এসব দুরাবস্থার কথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছি। সাথে সাথে টেকসই বেড়ী বাঁধ নির্মানের ব্যবস্থা করা, ভেঙ্গে যাওয়া সড়ক নির্মান, গ্রামের মধ্যের ছোট রাস্তার সংস্কার করার দাবীও জানিয়েছি। এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা- এনজিও গুলোকে এগিয়ে আসার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।

 160 total views,  1 views today


Tufan Convention Center & Resort Lack Views || Satkhira

তুফান কনভেনশন সেন্টার ও রিসোর্ট সাতক্ষীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© All rights reserved © 2020 songkalpo.Com
Design & Developed BY CodesHost Limited